কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫ এ ০৩:২৪ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ইতিহাস অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার খ্রিস্টপূর্বে দক্ষিন এশিয়ায় বসবাসকারী মা্নুষজন কাঠের জাহাজে করে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেয়। যার মাধ্যমে মানবসভ্যতা আজ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরেছে।
বাংলাদেশ একটি মেরিটাইম নেশন যার নদীসমূহ বিশাল বিস্তৃত অঞ্চল ঘুরে আমাদের একমাত্র উপসাগরে প্রণীত হয়েছে, এটি একাধারে পৃথিবীর বৃহত্তম “ব” দ্বীপ। এর সুবিশাল সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন জাহাজ ভাঙা শিল্প, আধুনিক শিপইইয়ার্ড এবং ৬০ হাজারের ও বেশি দক্ষ নাবিক দেশকে সমুদ্রশক্তিতে করেছে অনন্য। একইসাথে সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুরাতন জাহাজভাঙা শিল্প পুঃব্যাবহারযোগ্য করছে পরিবেশ রক্ষায় ও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। ১৩শ থেকে ১৮শ শতকের মধ্যে বানানো বাংলাদেশী কাঠের জাহাজগুলো “মেড ইন বাংলাদেশ” বুকে বয়ে নিয়ে তুর্কি, চায়না, পর্তুগাল, জার্মানিসহ আরো অনেক দেশের সমুদ্রে ভেসে বেড়াত যা বাংলাদেশের জাহাজশিল্পে সমৃদ্ধ হবার একটি কারণস্বরুপ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভৌগলিক পট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তান ব্রিটিশদের শাসন হতে মুক্তি লাভ করে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নৌ-বানিজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রশিক্ষনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রতিষ্টা করে যার ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে “মেরিন একাডেমি” স্থাপনের প্রস্তাবনা ও স্থান নির্ধারিত হয়। “জলদিয়া পয়েন্ট”, কর্ণফুলী নদীতীরে অবস্থিত, জায়গাটি ভৌগলিকভাবে জাহাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম যা ছিলো নৌ প্রশিক্ষনের জন্য যথোপযুক্ত। নাবিক প্রশিক্ষনের জন্য এই সুবিধা ভারত বাদে দক্ষিন এশিয়ার আর কারোর কাছেই ছিলোনা।
প্রথমত, ১৯৫২ সালে ৩১.১৯ লক্ষ টাকা নির্মান ব্যায়ে মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে ৫৩ লাখ এবং ১৯৬১ সাথে ৫৮.৩ লাখে বর্ধিত করা হয়। প্রথমবারের মতো ২২ জন নটিক্যাল শাখার এবং ২২ জন ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার প্রশিক্ষনরত শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৬২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মেরিন একাডেমী “মার্কেন্টাইল মেরিন একাডেমী” নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সরকার কতৃক মেরিন একাডেমীকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলে প্রতিষ্ঠানটি আবার পুনর্গঠন করা হয় এবং অভিজ্ঞ নাবিকদের দ্বারা চালিত হয়। প্রতিবছর যা বিপুল সংখ্যক নতুন প্রশিক্ষিত সমুদ্রগামী নাবিক তৈরী করে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিশ্ববানিজ্য সম্প্রসারনের কারনে বিশ্ববাজারে প্রশিক্ষিত নাবিকের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পরবর্তীতে আরো ৪ টি মেরিন একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও পাবনায় প্রতিষ্ঠিত এ চারটি মেরিন একাডেমি ৬ মে ২০২১ থেকে যাত্রা শুরু করে যা আমাদের দেশের মেরিন প্রশিক্ষন সক্ষমতাকে আরো সুনির্ভর এবং শক্তিশালী করে তুলেছে।